সেই এমপি রতনের অনুসারীদের কান্ড

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : আওয়ামীলীগের সম্মেলনে অতিথিগণের জন্য তৈরী করা খাবার সুনামগঞ্জ- ১(তাহিরপুর,জামালগঞ্জ ,ধর্মপাশা-মধ্যনগর) আসনের সরকার দলীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপির অনুসারীরা লাথি দিয়ে ফেলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুধু খাবার নষ্ট করাই নয় এমপি রতনকে প্রধান অতিথি না করায় তার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা রামদা নিয়ে সম্মেলন স্থলে হামলার চেষ্ঠা চালায়। পরবর্তীতে শুক্রবার তুমুল উক্তেজনা ও হট্রগোলের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানা আওয়ামীলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে।

সম্মেলনে সভাপতি পদে পাঁচজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে সাতজন প্রার্থী হওয়ায় তাঁরা একক প্রার্থী হিসেবে ঐক্যমতে পৌঁছতে পারেননি। পরে কাউন্সিলর ও সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীরা সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের নিকট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মধ্যনগর থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন নূরী।

সম্মেলন প্রস্ততি কমিটির সদস্য সঞ্জিব তালুকদার টিটোর সঞ্চালনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক এমপি আলহাজ¦ মো.মতিউর রহমান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল হুদা মুকুট,সাধারণ সম্পাদক ব্যরিস্টার এম এনামুল কবীর ইমন প্রমুখ।

জানা গেছে, ২০০২সালের প্রথমদিকে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামীলীগ থেকে পৃথক হয়ে মধ্যনগর থানা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করে। সর্বশেষ ২০১৫সালের ১০ডিসেম্বর আবদুল আউয়াল তালকুদারকে আহ্বায়ক করে ৩১সদস্য বিশিষ্ঠ মধ্যনগর থানা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। চলতি বছরের ১৭অক্টোবর সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৫সদস্য বিশিষ্ট মধ্যনগর থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি অনুমোদন দেন জেলা আওয়ামীলীগ।

মধ্যনগর থানা আওয়ামীলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ৩১অক্টোবর। পরে তা পরিবর্তন করে করা হয় ৮নভেম্বর।,

শুক্রবার অভিযোগ প্রসঙ্গে স্থানীয় এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক মধ্যনগর থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হয়নি। মধ্যনগর থানা আওয়ামীলীগের সৃষ্টিলগ্ন থেকে যারা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে অবদান রেখেছেন এমন কয়েকজন নেতা আজ জীবিত নেই। তাঁদেরকে সেখানে স্মরণ করা হয়নি। ১০থেকে ১৫মিনিটের মধ্যেই তড়িগড়ি করে সম্মেলন শেষ করা হয়েছে। আমাকে জড়িয়ে যে সব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এভাবে সম্মেলন করার ঘটনাটি আমি আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছি।

সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যরিষ্টার এম এনামুল কবীর ইমন বলেন, আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এই সংগঠনে সুনামগঞ্জ -১আসনের সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের প্রচেষ্ঠায় বেশ কিছু অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। সেইসব অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে সম্মেলনস্থলে হামলা চালিয়ে তা প- করার চেষ্ঠা করা হয়েছিল।

মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির পক্ষ থেকে শতাধিক অতিথির জন্য তৈরি করার খাবারও এমপি রতনের অনুসারীরা লাথি দিয়ে ফেলে নষ্ট করে দেয়। তিনি আরো বলেন, এমপি রতন নানা কর্মকান্ডে বিতর্কিত হওয়ায় তাঁকে ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। যারা আওয়ামীলীগকে মনে প্রাণে ভালোবাসে তাঁরা কখনো এরকম জঘন্য কাজ করতে পারে না। খুব শিগগিরই জেলা আওয়ামীলীগের সভা ডেকে এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মঞ্চে যেতে দেয়া হয়নি এমপি রতনকে: মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে শুক্রবার সুনামগঞ্জ- ১ আসনের বিতর্কিত সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপিকে সম্মেলন মঞ্চে যেতে দেয়া হয়নি। মধ্যনগর বাজারের একটি ঘরে তাকে স্থানীয় থানা পুলিশের বেষ্টনীর ভেতরই থাকতে হয়েছে।

এর আগে জেলা প্রশাসন থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল এলাকা ছাড়ার জন্যে। কিন্তু প্রশাসনের অনুরোধ উপেক্ষা করে তিনি মধ্যনগর বাজাওে শুক্রবার সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত হন। তার নামে ব্যানার টানানো হয় মঞ্চে। কিন্তু উপরের নির্দেশে তাকে দলের কোনও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে বারণ করা হয়।

এদিকে জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্ধ সম্মেলনের মঞ্চে উঠেই এমপি রতনের নাম লেখা ব্যানার খুলে পূর্বনির্ধারিত জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক এমপি মতিউর রহমানের নাম লেখা প্রধান অতিথির ব্যানার টানিয়ে দেন। সম্মেলনে শেষ করে জেলা নেতৃবৃন্দ মধ্যনগর ত্যাগ করার পর থানা পুলিশ এমপি রতনকে বেষ্টনী হতে বের হওয়ার সুযোগ দেন। তখন তার অনুসারীদের নিয়ে একটি পথসভা করে জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দকে দোষারোপ করে বক্তব্য দেন। এই সম্মেলনকে প্রহসনের সম্মেলন বলে আখ্যায়িত করেন এমপি রতন।

মধ্যনগর থানার ওসি মো. সেলিম নেওয়াজ অবশ্য বলেছেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।,

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
YouTube
YouTube
error: Content is protected !!