রাদনগর নুরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্ণীতির অভিযোগ

 ২০/২৫ লাখ টাকা আয় হলেও ব্যয়ের হিসাব নেই।
 জরিমানার নামে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করে হরিলুট।
 উপবৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রীদের কাছ থেকে বেতন আদায়।
 এক বছরেও কমিটিকে হিসাব দিচ্ছে না ।

আবুল কালাম, আজাদ,কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার মুরাদনগর নুরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা হাসিনা আক্তারের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্ণীতি, অনিয়ম ও স্বজণপ্রীতির অভিযোগ ওঠেছে। বছরে ২০/২৫ লাখ টাকা আয় হলেও একটি কুচক্রী মহলের যোগসাজসে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে হরিলুট করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে অভিযোগের পাহাড়। তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সৈয়দা হাসিনা আক্তার প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করার পর থেকেই লাগামহীন ভাবে বিভিন্ন প্রকার দুর্ণীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করেই যাচ্ছে। তার কর্মকান্ডে যারাই প্রতিবাদ করে তাদেরকে কৌশলে ম্যানেজ করে থাকে। পদে না থাকলেও প্রধান শিক্ষকের স্বামী কাজী সফিকুল ইসলাম দুলাল অবৈধ ভাবে বিদ্যালয়ে কেরানীর কাজ করে যাচ্ছে। তাকে প্রায়ই প্রধান শিক্ষকের পাশের চেয়ারে বসে বিভিন্ন শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকাবুঝিয়ে নিতে দেখা যায়।

বর্তমানে উক্ত বিদ্যালয়ে ১৪৫১ জন ছাত্রী রয়েছে। ছাত্রীদের ভর্তির নামে সেশান ফি, মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফি, রেজিষ্ট্রেশন ফি, উন্নয়ন ফি, বিদ্যুৎ বিল, স্কাউট ফি, খেলাধুলা ফি, মিলাদ ফি, ফরম পূরণ ফি, প্রশংসা পত্র ফি, একাডেমিক ট্রান্সকিপ্ট ফি, সনদ ফিসহ প্রতি বছর ২০/২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এরমধ্যে বেশীর ভাগ টাকাই বিভিন্ন প্রকার ভুয়া বিলভাউচার দিয়ে হরিলুট করার অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক সৈয়দা হাসিনা আক্তারের বিরুদ্ধে।

নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধিরা উক্ত টাকা খরচের হিসাব চেয়েও এক বছর যাবত কোন হিসাব পাচ্ছে না। ফলে নির্বাচিত প্রতিনিধি অনেকেই বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভায় যাওয়া আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

এ দিকে কতিপয় শিক্ষক ও কমিটির তথাকতিথ সদস্যসহ ওই চক্রটিকে অবৈধ ভাবে দোকান দেওয়ার নামে বিদ্যালয়ের টাকা দিয়ে সরকারি খাস জায়গায় বিল্ডিং করা হয়েছে। অনুপস্থিতির নামে প্রতিদিন ১০ টাকা করে ছাত্রীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে সরকারি নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শণ করে অবৈধ ভাবে রাতের অন্ধকারে কয়েকটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। গত দেড় বছর যাবত উপবৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে বেতন নেওয়া হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক সৈয়দা হাসিনা আক্তার টুকিটাকি খরচের জন্য ৫ হাজার টাকা হাতে রাখার নিয়ম থাকলেও তিনি লাখ লাখ টাকা হাতে রেখে খরচ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক ও তার স্বামী (বড় স্যার) কাজী সফিকুল ইসলাম দুলাল প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ ভাবে স্কুলেই নিয়মিত প্রাইভেট পড়িয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। বিষয়টির ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের অভিভাবক প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান জানান, গত ১৩ মাসে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়েও পাইনি।

গাছ কাটার বিষয়ে বর্তমানকমিটির কোন রেজুলেশন নেই। অনুপস্থিতির নামে প্রতিদিন ১০ টাকা করে ছাত্রীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। সে টাকা কোন কাজে ব্যয় হয় তা আমি জানি না। অভিভাবক প্রতিনিধি কাজী মাজহারুল ইসলাম সোহাগ জানান, প্রতি বছর বিদ্যালয় থেকে ২০/২৫ লাখ টাকা আয় হবার কথা। যদি হরিলুট করা না হয়, তাহলে টাকা গুলো যাচ্ছে কোথায়।

প্রধান শিক্ষক তার খেয়াল খুশীমতো মনে যা চায় তাই করছে। বিদ্যালয়টিকে পারিবারিক প্রতিষ্ঠান বানাচ্ছে।

অভিভাবক প্রতিনিধি অরূপ নারায়ন পোদ্দার পিংকু জানান, গাছ কাটার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারেও আমাকে কিছু জানানো হয়নি। কমিটির সভায় আমাকে বিদ্যালয়ের বেসরকারি হিসাব কমিটির আহবায়ক বানালেও প্রধান শিক্ষক এ পর্যন্ত কোন প্রকার হিসাব দিতে পারেনি।

অভিভাবক প্রতিনিধি মমতাজ বেগম জানান, ২৫ জুন সভা ডাকলেও গত ২৩ জুন তড়িঘড়ি করে সভা করা হয়। ওই সভায় আমার যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না। কয়েক দফা ফোন করে আমাকে নেওয়া হয়। আমি সভায় উপস্থিত হয়ে অপর সদস্যদের উপস্থিতির কথা জানতে চাওয়া মাত্রই প্রধান শিক্ষক ধমক দিয়ে জোরপূর্বক রেজুলেশন বহিতে আমার স্বাক্ষর নেয়।

গাছ কাটাসহ বিদ্যালয়ের কোন সিদ্ধান্ত আমাকে জানানো হয়নি। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দা হাসিনা আক্তার বিদ্যালয়ের টাকা দিয়ে সরকারি জায়গায় বিল্ডিং করা ও বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়টি শিকার করে জানান, ৭টি গাছ কাটার অনুমোদন আছে। ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের টাকা লুটপাট করার বিষয়টি সঠিক নয়।

কোন প্রকার দুর্নীতি ও অনিয়ম ছাড়াই বিদ্যালয় পরিচালনা করতে অনেক হিমশিম খেতে হচ্ছে। কমিটির সদস্যদের নোটিশের মাধ্যমে ডাকা হয়। তারা না আসলে আমার কিছুই করার নেই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম তালুদার জানান, লোকমুখে অনেক কথাই শোনা যায়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া তদন্ত করা সম্ভব নয়। প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে এ পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উক্ত বিষয়ে কথা বলার জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নাছরিন পারভীন বানুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও মোবাইল ফোন (০১৭১৬-৪২৭৫১৯) বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি দেশের বাহিরে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
YouTube
YouTube
error: Content is protected !!