যে কারণে বাংলাদেশে বার বার ঘটছে ট্রেন দুর্ঘটনা

ব্রিটিশ বাংলা নিউজ : বাংলাদেশে কেন এত ট্রেন দুর্ঘটনা ? এই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। গত রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় যাত্রীবাহী দু্ই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক যাত্রী।

অভিজ্ঞদের মতে এর প্রধান কারনের মধ্যে চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব এবং লম্বা কর্ম ঘন্টা দুর্ঘটনার পিছনে একটি বিরাট ভূমিকা রাখে।।

বিশেষজ্ঞদের মতে ,ট্রেনের যাত্রীদের নিরাপদ রাখতে প্রত্যেক চালককে দুই বছর প্রশিক্ষণ নিয়েই ফিল্ডে আসা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা ঘটছেনা। অন্যদিকে , ডিউটির চাপে ক্লান্ত চালকরা অনেক সময়ই ঠিক ভাবে ট্রেন পরিচালনা করতে পারেন না। ফলে ঘটে দুর্ঘটনা। একটি সূত্র মতে বাংলাদেশে ট্রেনের চালক সংকটের কারণে তাদের রোস্টার ঠিক থাকে না ৷ কখনও ২৪ ঘন্টাও ডিউটিও করতে হয় তাদের !

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক শামসুল হকের মতে দুর্ঘটনার কারণ গুলো আরো বিস্তর। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের নজর উন্নয়নের দিকে৷ কিন্তু মেরামত যে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেদিকে বাজেটও কমে যাচ্ছে ৷ বৃটিশ আমলের রেললাইন নিয়মিত সংস্কার করা প্রয়োজন ৷ সেগুলো কি হচ্ছে? পাশাপাশি অনেকদিন ধরেই রেলে জনবল কম৷ এটা অন্য সেক্টরের মতো না৷ একজনকে নিয়োগ দিলে তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগাতে সময় লাগে৷ ১৯৯১ সালে তো বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর একসঙ্গে ১০ হাজার মানুষকে রেল থেকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বিদায় দেওয়া হয়েছে ৷ এরপর কিন্তু খুব বেশি জনবল নেওয়া হয়নি এই সেক্টরে৷”

ট্রেন কেন এত লাইনচ্যুত হচ্ছে? এত বেশি দুর্ঘটনার কারণ কী? সাংবাদিকদের এমন একটি প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছিলেন , ‘‘ব্রিটিশ আমলের রেলপথকে তো খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে কখনো নেওয়া হয়নি৷ আগে মানুষ ট্রেনে চড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে না৷ এখন অনেক বেশি মানুষ ট্রেনে চড়েন৷ ১৯৭৩ সালে রেলে জনবল ছিল ৬৮ হাজার৷ তখন দেশের মানুষ ছিল ৭ কোটি৷ আর এখন ১৬-১৭ কোটি মানুষের দেশে রেলের জনবল ২৭ হাজার৷ ১৯৮৬ সাল থেকে তো রেলে জনবল নিয়োগ বন্ধই ছিল৷ এরমধ্যে বিএনপি এসে বহু মানুষকে বিদায় করেছে৷ ফলে বড় ধরনের জনবলসংকট তৈরি হয়েছে৷ আমরা নতুন করে কিছু নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছি৷ কিন্তু এরজন্য তো সময় দরকার৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা বহু চালককে অবসরে না পাঠিয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে রেখে দিচ্ছি৷ তা না হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়৷ আর দেশে সিঙ্গেল লাইনে ট্রেন চলে৷ ফলে কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে পুরো এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়৷ এটা যতদিন না ডাবল লাইন করা যাচ্ছে, ততদিন এই ধরনের কিছু সমস্যা থাকবেই৷”

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে , ট্রেনে অটোমেটিক ও ম্যানুয়াল দুই ধরনের ব্যবস্থা আছে৷ দুটো একসঙ্গে কাজ না করলে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে যায় ৷ এতে চালকের কিছুই করার থাকে না ৷

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
YouTube
YouTube
error: Content is protected !!