যেভাবে নারী দিবসের সূচনা

ব্রিটিশ বাংলা নিউজ ডেস্ক : আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো নারী পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো..এই প্রতিপাদ্য নিয়ে এবারের আয়োজন। এদিন নারীদের সম অধিকার অর্জনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারী নীতি বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করেন সমাজ বিজ্ঞানীরা। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন নারীরা।

গত কয়েক দশকে কৃষিকাজ থেকে শুরু কওে গার্মেন্টস এ সুতো বোনাসহ সব কাজেই নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। নেতৃত্বেও নারীরা এগিয়ে। তবে এখনো অনেক ক্ষেত্রে রয়ে গেছে বেতন বৈষম্য। তবে এসব কিছুর উপর নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বেশি ভাবিয়ে তুলছে তরুণ প্রজন্মকে। রাস্তাঘাট থেকে অফিস আদালত সব জায়গায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস :

প্রতি বছরের ৮ মার্চ পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। পূর্বে এই দিবসের নামটি ছিল আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস। নারীর প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা কিংবা নারীর আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা বা অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে এই দিবস পালন করা হয়।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস প্রকৃতপক্ষে নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস থেকেই এসেছে। ১৮৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় সুতা কারখানার নারীরা তাদের মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নেমেছিল। সেই মিছিলে সরকার বাহিনীর দমন-পীড়ন চালায়।

১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ; জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বছর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয়, ১৯১১ সাল থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা।

১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে থাকে। বাংলাদেশেও ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা প্রাপ্তির আগে থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে। অতঃপর ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে দিনটি।

বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারী ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, কিউবা, জর্জিয়া, গিনি-বিসাউ, ইরিত্রিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজিস্তান, লাওস, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনিগ্রো, রাশিয়া, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উগান্ডা, ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং জাম্বিয়া। এছাড়া চীন, মেসিডোনিয়া, মাদাগাস্কার ও নেপালে শুধুমাত্র নারীরাই এই দিনটিতে সরকারি ছুটির পান।

নারী হিসেবে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রেই যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে চান তরুণীরা। তবে এখনও অনেক বাধা পেরিয়ে চলতে হয় নারীদের, এমনটাই মনে করেন বিশ্লেষকরা। আর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারীদের কর্মক্ষেত্রে আসা নিয়ে হতাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর সাদেকা হালিম।

উত্তরাধিকার হিসেবে সম্পদের সমান অধিকার অর্জনে নারী নীতি বাস্তবায়নের তাগিদ দিলেন তিনি।
প্রতিবছর ৮ মার্চ নারীদের শ্রদ্ধা সম্মান এবং আর্থ সামাজিক অবস্থার দিকে নজর দেওয়া হয় বিশ্ব জুড়ে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
YouTube
error: Content is protected !!