মুক্তিযুদ্ধের সূতিকা গাথা শ্রীমঙ্গলের বধ্যভূমি ’৭১

আবুজার বাবলা,শ্রীমঙ্গল :

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে শহরের ভানুগাছ সড়কের দু’পাশে নয়নাভিরাম সবুজে ঘেরা চা বাগান। এর এক পাশে বিজিবি’র সেক্টর হেড কোয়ার্টার। সবুজ শান্ত এলাকাটির স্থানীয় নাম ভুরভুরিয়া চা বাগান। সড়কের পাশের বটকুঞ্জের নিচ দিয়ে প্রবাহিত ভুরভুরিয়া স্বচ্ছ জলের পাহারি ছড়া। শান্ত প্রকৃতির এই স্থানই এখন মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকা গাঁথা বধ্যভূমি’৭১।

Like and follow us on Facebook for all future news.

ভাস্কর্য ‘মৃত্যুঞ্জয়ী ৭১’। ১৯৭১ এর ২৫ মার্চের কালো রাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাক-হানাদার বাহিনী। সারাদেশে চলে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। পাক-হানাদারবাহিনীর এসব নৃশংসতার চিহ্ন সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পর্যটন শহর ও চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলেও এমন বধ্যভূমি রয়েছে অনেক। বধ্যভূমি ’৭১ তেমনি পাক হানাদারদের ভয়াল নৃশংসতার এক নিরব স্বাক্ষী।

জানা যায়, ভুরভুরিয়া ছড়ার এই বটকুঞ্জের নিচে পঞ্চাশের দশকে জনৈক সাধুবাবা বসতেন। সাধন-ভজন করতেন। তখন থেকে এটি সাধুবাবার থলি হিসেবে সমাধিক পরিচিত ছিল। বধ্যভূমির অদূরে লেবার ওয়েলফেয়ার অফিস ও হবিগঞ্জ সড়কে ওয়াপদা রেস্ট হাউজে ছিল পাক হানাদার বাহিনীর টর্চার সেল। পাক হানাদার বাহিনী নিরীহ নিরস্ত্র চা-শ্রমিক, সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন স্থানে আটক মুক্তিযোদ্ধাসহ সন্দেহভাজন অসংখ্য মানুষকে এই টর্চার সেলে নির্যাতন করা হতো। পরে তাদের হত্যা করে এই ছড়ার চরে মরদেহ পুঁতে রাখতো। পাক বাহিনীর নৃশংসতার চিহ এই বধ্যভূমিটি স্বাধীনতার পর থেকে অযতেœ আর অবহেলায় পড়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় শ্রীমঙ্গলে ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির স্মরণে এই বধ্যভূমিতে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’৭১ নামের একটি ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়।

Subscribe our YouTube channel for all our future videos.

ভাস্কর্য শিল্পী কাজল আচার্য্য ৪৫ দিনে এটি নির্মাণ সম্পন্ন করেন। । ২০১০ সালের শেষের দিকে এ বধ্যভূমির ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’৭১ এর পাশে নির্মিত হয় স্মৃতিস্তম্ভ বধ্যভূমি ৭১’। সে বছর ১৬ ডিসেম্বর ্ধসঢ়;এর উদ্বোধন করা হয়। ২০১০ সালের শেষ দিকে এই বধ্যভূমিটির রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ১৪ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের তৎকালীন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. নূরুল হুদা উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং তিনি একটি খসড়া পরিকল্পনা ও নকশা তৈরি করেন। নকশাটি তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দের কাছে তুলে ধরেন। পরিকল্পনাটি সকলেই সাদরে গ্রহণ করেন। পরে অনেকেই এ মহতী কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় এ বধ্যভূমিতে নির্মিত হয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘বধ্যভূমি ৭১’। ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিস্তম্ভ ও একাত্তরের স্মৃতি বিজরিত বধ্যভূমিটি দেখতে মানুষ আসতে থাকেন এখানে। ধীরে ধীরে এ স্থানটি এখন আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। ছুটির দিনগুলোতে এখানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ঈদ ও পূজোসহ বিভিন্ন ছুটির দিনগুলোতে হাজার হাজার মানুষের পদভারে মূখর হয়ে উঠে এ বধ্যভূমিটি।

শ্রীমঙ্গলের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহকারী বিকুল চক্রবর্তী বলেন, এখানে একটি স্মৃতি পাঠাগার নির্মাণ পরিকল্পনাধীন রয়েছে। স্মৃতি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা গেলে স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধ, শহীদের আত্মত্যাগের বিষয়ে আজকের প্রজন্ম অনেক কিছুই জানতে পারবে। এতে স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহিদদের তালিকা পরিচিতি আকারে সংরক্ষণ করার পনিকল্পনার কথাও জানালেন বিকুল চক্রবর্তী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

কোয়ালিটি নিউজ ও ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।

http://www.britishbanglanews.com/150k
https://www.facebook.com/Britishbanglanews/121k
https://www.facebook.com/Britishbanglanews/
youtube.com/c/BritishBanglaNews18k
youtube.com/c/BritishBanglaNews
error: Content is protected !!