মাথা ফাটিয়ে আবারো সমালোচনায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা

নিউজ ডেস্ক : মাত্র দুদিন আগে কেন্দ্রীয় দুই শীর্ষ নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা নানান অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিতে বলেছেন সংগঠনের সাংগঠনিক নেতা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উপস্থিত নেতাদের সমালোচনার একপর্যায়ে ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিতে বলেন শেখ হাসিনা। সে সময় ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে বিরক্তিও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এবার এর সাথে যোগ হয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের গাড়িতে বসা নিয়ে দুই সহ-সভাপতির মধ্যে মারামারির ঘটনা । এতে দুজনই আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জহির ও শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎ। তারা দুজনই সভাপতি শোভনের অনুসারী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুটার দিকে রেজানুল হক চৌধুরী শোভন মধুর ক্যান্টিনে আসেন। পরে যাওয়ার সময় তার সাথে গাড়িতে ওঠেন তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জহির ও সিনিয়র নেতা আল নাহিয়ান খান জয়সহ কয়েকজন। এসময় গাড়িতে না উঠতে পেরে বাকবিতণ্ডা শুরু করেন সহসভাপতি শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎ। এতে শোভন অন্যদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জহির এবং বিদ্যুতের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে লাঠি হাতে তারা মারপিট শুরু করেন। এসময় পাশে থাকা নেতারা তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। মারামারিতে দুজনের মাথা ফেটে যায়। বিদ্যুৎ প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য যান।

আহত ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎ সাংবাদিকদের বলেন, শোভন ভাইয়ের আশেপাশে এরা কয়েকজন সব সময় থাকে। যাদের কারণে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। এরা একধরণের সিন্ডিকেট করে এ কাজগুলো করে থাকেন। আমি এসবের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে আমার ওপর তারা চড়াও হন।

বিদ্যুৎ আরো অভিযোগ করেন, জহিরের পুরো পরিবার জামায়াত-শিবির। এরা শোভন ভাইকে বিভিন্নভাবে পরিচালনা করেন। এদের সাথে মূলত আমার আদর্শিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। তবে গাড়িতে বসা নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাতের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। তার দাবি এটা সিন্ডিকেট-নন সিন্ডিকেট সমস্যা।

এ বিষয়ে তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জহিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন সাংবাদিকদের বলেন, এমন কিছু ঘটেনি। তাদের দুজনই আমার গাড়িতে ছিল।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
YouTube
YouTube
error: Content is protected !!