ভিয়েনায় সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের স্বাধীনতা দিবস পালন

নিউজ ডেস্ক , লন্ডন : ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মহান বিজয় দিবস পালন করেছে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ।

এ উপলক্ষে রবিবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার স্থানীয় একটি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। সভায় ইউরোপ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দেশের কমিটি গঠনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এম নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের পরিচালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মোহাম্মদ শরীফ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন গেরগার্ড স্মিড, মানফ্রেড আনদেরলে এবং রবার্ট স্টিডেল।

এ সময় বক্তব্য দেন ইতালি আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মো. ইদ্রিস ফরাজী, অস্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার হাফিজুর রহমান নাসিম, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল কবির, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ সেলিম, জার্মান আওয়ামী লীগের সভাপতি বশিরুল আলম সাবু, সুইজ্যারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তাজুল ইসলাম, ইতালি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইকবাল, ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম, ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান, সুইজ্যারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল খান, ইতালি আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আবু সাইদ খান, জাহাঙ্গীর ফরাজী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ রব মিন্টু, অস্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের আহমেদ ফিরোজসহ অস্ট্রিয়া, ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, ডেনমার্ক, হল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জার্মান, ফিনল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

পরে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

স্বাধিকারের দাবিতে জেগে ওঠা নিরীহ বাঙালির ওপর একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চালিয়েছিল নির্মম হত্যাযজ্ঞ। সেই মৃত্যুর বিভীষিকা থেকে এক হয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল দেশের মানুষ।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে শুরু করে বাঙালিরা। সেই পটভূমিতে বায়ান্নতে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধিকারের চেতনার উন্মেষ ঘটে পূর্ব বাংলায়। ধাপে ধাপে তা স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়।

সামরিক শাসন, শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফার আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচনসহ নানা ঘটনাপ্রবাহের ভেতর দিয়ে এগিয়ে আসে একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের আহ্বানে জেগে ওঠে নিরীহ বাঙালি। যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে তারা শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নেয়।

২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকায় চালায় বর্বর গণহত্যা। ওই রাতেই গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু। তার আগেই বার্তা পাঠিয়ে দেন স্বাধীনতার ঘোষণার। এরপর গঠিত হয় প্রবাসী সরকার। তাদের নেতৃত্বে সংগঠিত রূপ নেয় মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষের আত্মদান, তিন লাখ নারীর সম্ভ্রম আর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বিজয়। পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের।

মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশেরই কিছু লোক বিশ্বাসঘাতকতা করে হাত মিলিয়েছিল পাকিস্তানি ঘাতকদের সঙ্গে। তারা অংশ নেয় গণহত্যা, নারী নির্যাতন ও লুটতরাজ-অগ্নিকাণ্ডের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে। সেই চিহ্নিত শত্রুদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রত্যয় নিয়ে চার দশকের বেশি সময় ধরে স্বাধীনতা বা বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার অবশেষে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করে।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ছিল বিশাল। বাঙালি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র চেয়েছিল। চেয়েছিল এমন একটি রাষ্ট্র, যা প্রতিষ্ঠিত হবে কিছু আদর্শের ভিত্তির ওপর। স্বাধীনতা দিবস আবার এসেছে অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সেসব আদর্শের দিকে ফিরে তাকানোর দাবি নিয়ে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook100k
YouTube
error: Content is protected !!