বাংলাদেশে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। কিন্তু কেন এই বৃদ্ধি

নিউজ ডেস্ক ,ঢাকা : বাংলাদেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েই চলছে । এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে দেশে ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ১০ হাজারের কিছু বেশি।

বাংলাদেশ পুলিশ ও জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইউনিসেফের যৌথ জরিপে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সেলিম চৌধুরী

সোমবার সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে আত্মহত্যা বিষয়ক এক কর্মশালায় তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।

Like us on Facebook

অধ্যাপক মো. সেলিম চৌধুরী বলেন, ‘জাপানে এক সময় আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক বেশি থাকলেও এখন তা কমে এসেছে। অথচ আমাদের দেশে নানা সামাজিক কারণে এই প্রবণতা বেড়েই চলেছে।’

কর্মশালায় সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান জানান, তার জেলায় ২০১৮ সালে ২৭৪টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩০৬ জন।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশে গড়ে দৈনিক ২৮ জন আত্মহত্যা করে। বেশির ভাগ ২১ থেকে ৩০ বছরের নারী। এ ছাড়া বাংলাদেশে ৬৫ লাখ মানুষ আত্মহত্যার ঝুঁকি নিয়ে বেঁচে আছে। এদের বেশির ভাগই অল্প বয়সী এবং ৮৯ শতাংশই নারী। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন অনুযায়ী বছরে ১০ হাজার মানুষ বিষ খেয়ে অথবা ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করছে।

পুলিশের রিপোর্ট অনুসারে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে গড়ে দৈনিক তিনজন আত্মহত্যা করেছে। রিপোর্ট বলছে, প্রতি বছরই বাংলাদেশে আত্মহত্যার হার বাড়ছে। এ দেশে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা হয় বিষ (কীটনাশক জাতীয়) পানে। ২০১৭ সালে বিষপানে আত্মহত্যার এ সংখ্যাটা ছিল তিন হাজার ৪৬৭টি। এরপরই রয়েছে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যার হার। ওই বছর ৫৬৯টি এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক কারণে বাংলাদেশে বেড়ে যাচ্ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। স্বাস্থ্যসম্পর্কিত আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল ল্যানচেটের গবেষণা অনুসারে বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। কারণ এখানে নারীদের সামাজিক মর্যাদা কম এবং নারীরা অর্থনৈতিকভাবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পুরুষের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া, শহরের চেয়ে গ্রামে আত্মহত্যার প্রবণতা ১৭ গুণ বেশি। গ্রামে যারা আত্মহত্যা করে তাদের বেশির ভাগ অশিক্ষিত ও দরিদ্র। আত্মহত্যায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপুর্ণ ১০ থেকে ১৯ বছরের বয়সী মেয়েরা।

বয়োঃসন্ধিক্ষণে আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে আনতে শিশুকাল থেকেই মা-বাবার আন্তরিক সাহচর্য থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছন্দা কর্মকার। তিনি রেডিও তেহরানকে বলেছেন, বিশেষ করে কিশোর বয়সে ছেলে মেয়েরা বেশী স্পর্শকাতর থাকে। এ সময় অভিভাবক, স্কুল শিক্ষক বা বন্ধুদের কোন আচরণ তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া করছে কী না, তাদের আচার-আচরণে কোন পরিবর্তন দেখা গেল কী না তা বুঝতে হবে মা-বাবকেই।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মহত্যার পেছনে যেসব কারণ দায়ী এসব চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে না পারলে এ প্রবণতা বাড়তেই থাকবে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চাইল্ড অ্যাডোলোসেন্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রির সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, বাংলাদেশে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতনে, দাম্পত্য কলহে, পারিবারিকসম্পর্কের জটিলতার ইত্যাদি কারণে। উত্ত্যক্তকরণ ও প্ররোচিত করার কারণেও আত্মহত্যা হয়ে থাকে এখানে।

এ ছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণজনিত লোকলজ্জার ভয়েও এ ঘটনা ঘটে থাকে। এর বাইরে রয়েছে প্রেম ও পরীক্ষায় ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক সঙ্কট (দারিদ্র্য ও বেকারত্ব)। কিছু শারীরিক অসুস্থতার কারণেও আত্মহত্যা হয়ে থাকে। এগুলো হলো- বিষন্নতা, ব্যক্তিত্বের বিকার, সিজোফ্রেনিয়া।

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন। ধন্যবাদ ।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
YouTube
YouTube
error: Content is protected !!