বাংলাদেশে প্রতারণার আরেক নাম – ম্যারেজ মিডিয়া

নিউজ ডেস্ক ,ঢাকা : বাংলাদেশে থামছে না বিয়ে নিয়ে প্রতারণা বাণিজ্য। অসংখ্য নারী-পুরুষ সর্বস্ব খুইয়েছেন বিয়ে প্রতারণার কবলে পড়ে। প্রবাসী পাত্র-পাত্রীদের বিয়ে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তী সময়ে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে অধিকাংশ পাত্র-পাত্রীই প্রকৃতপক্ষে প্রবাসী নন। দেশ ছেড়ে বিদেশ পর্যন্ত এই প্রতারক চক্রের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত।

পাত্র-পাত্রী চাই বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই হচ্ছেন হয়রানির শিকার। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সোনার হরিণ পাত্র বা পাত্রীর পেছনে ছুটে পকেট খালি হয়েছে তাদের। এ বিষয়ে নিজেরাই ফি নির্ধারণ করেন ম্যারেজ মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো।

পাত্র পাত্রী চাই এমন বিজ্ঞাপনে থাকে অনেক অপ্রত্যাশিত স্বপ্নের ডাক। ইমিগ্রেন্ট পাত্রীকে বিয়ে করে ইমিগ্রেশনের লোভ। ডিভোর্সি পাত্রীকে বিবাহের টোপ। এমন অনেক অধরা স্বপ্ন পূরণের হাতছানিতে প্রতারিত হয়েছেন অনেকে।

এসব প্রতিষ্ঠানের সদস্য ফি ১০ হাজার টাকা। অর্থাৎ পাত্র-পাত্রী পছন্দ হোক বা না হোক প্রথমেই গুনতে হবে টাকা।

তারপর বিয়ে হলে এক লাখ কিংবা পাত্র বা পাত্রী পক্ষের অর্থনৈতিক অবস্থা বুঝে তিন লাখ পর্যন্তও ফি নেয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এর জন্য কোন সুনির্দিষ্ট নিয়মের ধার ধারে না প্রতিষ্ঠানগুলো।

প্রতিষ্ঠানগুলো দায় চাপাচ্ছে একে অপরের ওপর। সহজ সরল বেকার যুবকরা বেশিরভাগ সময়ই এ ধরণের বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পড়েন। বিভিন্ন সময় এ ধরণের কিছু প্রতারককে আইনের আওতায়ও এনেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবু থামছে না এর দৌরাত্ম।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, প্রবাসী পাত্র-পাত্রীর বিয়ে নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ অনেক। অনেক অভিযোগের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত মামলা হয়েছে। অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে। পাত্র ও পাত্রী উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রতারণার ঘটনা ঘটে।

পাত্রীরা অনেক সময় বিয়ের পর কয়েক মাস বা বছর খানেক স্বামীর সঙ্গে ভালভাবেই দেশে ঘর সংসার করে। ঘর সংসার করার সময় স্ত্রী নিজের নামে স্বামীকে ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলে দিতে বলে। আবার স্বামী-স্ত্রীর ভাল সম্পর্কের কারণে স্বামীও অনেক সময় ইচ্ছে করে স্ত্রীর নামেই ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলে দেয়। এরপর স্বামী বিদেশ চলে যান। সেখান থেকে স্ত্রীর এ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান। অনেক সময় স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে জমি কেনা, ঘর করা, ব্যবসা বাণিজ্য করার কথা বলে স্বামীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ব্যাংক এ্যাকাউন্টে স্বামীকে পাঠাতে বলেন। স্বামী বিশ্বাস করে পাঠিয়ে দেয়।

একপর্যায়ে এ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা জমা হওয়ার পর স্ত্রী আর স্বামীর ঘর সংসার করতে রাজি হয় না। পাঠানো টাকা খরচ হয়ে গেছে বলে, নানা অজুহাত দেখান। শেষ পর্যন্ত চরম তিক্ততার মধ্য দিয়ে স্বামী-স্ত্রী আলাদা হয়ে যান। মাঝখান থেকে প্রতারণার কবলে পড়ে পাত্র মোটা অঙ্কের টাকা হারান। এমনকি প্রবাসী এক পাত্র বিশ্বাস করে স্ত্রীর নামে জমি, বাড়িঘর, ব্যবসা বাণিজ্য সব লিখে দিয়েছেন। এরপর ওই স্ত্রী পাঁচ বছরের মেয়েকে রেখে অন্যত্র চলে যাওয়ার রেকর্ড আছে।

শুধু পাত্রী নয়, পাত্রের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটে। অনেক পাত্র বা পাত্রী পরিকল্পিতভাবেই এমন প্রতারণা করে থাকে। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের তুলনায় এমন অপরাধ কমে এসেছে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
YouTube
error: Content is protected !!