বাংলাদেশে অনলাইনে রং ফর্সাকারী ক্রিমের নামে বিক্রি হচ্ছে ‘বিষ’

ব্রিটিশ বাংলা নিউজ :

ব্রিটেনের ভোক্তাদেরকে রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহারে সতকর্তা জারি করে বলা হচ্ছে ‘যেকোনো মূল্যে’ এ ধরণ্যের পণ্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

Like and follow us on Facebook for all future news.

ব্রিটিশ লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এলজিএ) এই সতর্কবার্তায় বলা হচ্ছে, রং ফর্সাকারী ক্রিমে থাকা উপাদান ত্বকের উপরিভাগের একটি স্তরকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

এতে বলা হয়, অনেক পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান হাইড্রোকুইনোন থাকে। এছাড়া অনেক ক্রিমে মার্কারি বা পারদ থাকার কথাও জানা গেছে।

Subscribe our YouTube channel for all our future videos.

কিন্তু বাংলাদেশের অনেক নারীদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ আছে গায়ের রং ফর্সা করার। আর এ কারণে অল্প সময়ের মধ্যে সহজ সমাধান হিসেবে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম।

এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রং ফর্সাকারী ক্রিমের পসরা সাজিয়ে রাতারাতি ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে নানা ধরনের অনলাইন প্রতিষ্ঠান। যারা লোভনীয় কথার ফুলঝুড়িতে এসব ক্রিম ব্যবহারে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন। চাহিদার কথা মাথায় রেখে পিছিয়ে নেই শহরের সুপার মার্কেটের প্রসাধনী দোকানগুলো। এমনকি পাড়া-মহল্লার দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত এসব নিম্নমানের ক্রিমে সয়লাব হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো- এসব নিত্য নতুন নিম্নমানের ক্রিম কি আসলেই কাজে দেয়? ত্বকের রঙ ফর্সা করে? রঙ ফর্সাকারী ক্রিম বলতে আমরা যেগুলোর কথা জানি এগুলোর বেশিরভাগেই রয়েছে ‘হাইড্রোকুইনান’। তাছাড়া ক্রিমে অতিরিক্ত পারদের ব্যবহার পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও এসব ফর্সাকারী ক্রিমে বাজারে ছেয়ে গেছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। ফলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ ঝুঁকিতে রয়েছে।

বাংলাদেশের এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন- এসডোর এক গবেষণা এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) লালমাটিয়ায় এসডোর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আইনত নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও পারদযুক্ত (যা একটি ভারী বস্তু এবং বিপজ্জনক নিউরোটক্সিন) ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, এখনও বিভিন্ন দোকান ও অনলাইনে ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে। পারদ দূষণ রোধকারীর কাজে নিয়োজিত এনজিও জোটের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় এটি প্রকাশিত হয়েছে।

এতে বলা হয়, ১২টি দেশের ১৫৮টি পণ্যের মধ্যে ৯৫টি ক্রিমে নির্ধারিত সীমার ১ পিপিএম এর চেয়ে বেশি এবং প্রায় ৪০ থেকে ১,৩০,০০০ পিপিএম পর্যন্ত পারদের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব পণ্যের দুই-তৃতীয়াংশ (৯৫ টির মধ্যে ৬৫ টি) অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে।

এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, এসব বিপজ্জনক ও নিষিদ্ধ পণ্যগুলোতে উচ্চমাত্রায় পারদ উপস্থিত। মূলত যারা এই পণ্যগুলোকে বার বার ব্যবহার করছে ও তাদের সন্তানরা এই পারদ দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি উচ্চমাত্রার পারদযুক্ত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম এবং এই বিষ বাণিজ্য বন্ধের জন্য সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একসাথে কাজ করার ব্যাপারেও মত দেন।

তিনি বলেন, সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপের কারণে দোকানে প্রকাশ্যে উচ্চমাত্রার পারদযুক্ত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম বেচা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অনলাইনে তা ঠেকানো যাচ্ছে না। তাই এব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কারি যুক্ত পণ্য পরিবেশে ফেলা হয়, এগুলো ড্রেনের পানির সাথে সহজেই মিশে যায় এবং পরবর্তীতে নদী ও সাগরে গিয়ে জমা হয়। এই মার্কারি মানুষের দেহে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে প্রবেশ করে রক্তের কোষ গুলোর ক্ষতি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

কোয়ালিটি নিউজ ও ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।

http://www.britishbanglanews.com/150k
https://www.facebook.com/Britishbanglanews/121k
https://www.facebook.com/Britishbanglanews/
youtube.com/c/BritishBanglaNews18k
youtube.com/c/BritishBanglaNews
error: Content is protected !!