বইমেলার প্রতি লন্ডন হাই কমিশনের এ কেমন আচরণ !

সুরমার সম্পাদকীয়:
গত ২৩ এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদের উদ্যোগে লণ্ডনে দুদিন ব্যাপী বই মেলা সম্পন্ন হলো। উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন এ মেলায় রাজধানীর বাইরে বসবাসকারী অনেকে এসেছেন, অনেকে এসেছেন ছেলেমেয়েসহ। বাংলাদেশ বইমেলা নিয়ে তাদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস সত্যি প্রশংসনীয়। যারা এর আয়োজন করেছেন এবং ঢাকা থেকে আগত অতিথিবৃন্দসহ কমিউনিটির যারা বিভিন্নভাবে এর সাথে সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন।

অংশগ্রহণকারীদের মেলা নিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং উদ্যোক্তাদের তৃপ্তির পাশাপাশি এ প্রসঙ্গে কিছু প্রশ্ন অনেকের আলোচনায় ঘুরেফিরে আসছে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ সূত্রে জানা যায়, তারা লণ্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনের সাথে প্রথমে ইমেইলে যোগাযোগ করেন। কয়েকটি ইমেইল পাঠিয়েও কোন জবাব না পেয়ে পরিষদের পক্ষ থেকে একজন সিনিয়র সাংবাদিক হাইকমিশনে টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। বার বার ফোন করেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কেউ ফোন ধরেননি। পরে অবশ্য তাঁকে পাওয়া যায় এবং পরিষদের সাথে বৈঠকের আয়োজন হয়। বৈঠকে হাই কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদের পক্ষ থেকে পাঠানো ইমেইল পেয়েছেন, যদিও প্রেরিত ইমেইলের জবাব দেয়া হয়নি। সেখানে পরিষদের সভাপতিসহ অন্যান্য কর্মকর্তা হাই কমিশনার মহোদয়কে বই মেলায় উপস্থিত হওয়ার জন্যে আমন্ত্রণ জানান। হাই কমিশনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাই কমিশনার মহোদয় বা তাঁর পক্ষ থেকে অন্য কেউ অনুষ্ঠানে আসেননি এবং অপারগতার কোন বার্তাও পাঠাননি।

বই মেলায় দলমত নির্বিশেষে বিলাতের সর্বস্তরের মানুষ উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু সেখানে বিলাতে বাংলাদেশের সরকারী প্রতিনিধি হাই কমিশনার মহোদয় কি কারণে উপস্থিত হননি তা এখনো রহস্যাবৃত্ত থেকে গেছে। তিনি কথা দিয়ে আসেননি, কোন প্রতিনিধি বা এপলজিও পাঠাননি। হঠাৎ উদ্ভূত কোন কারণে যে কেউ পূর্বনির্ধারিত একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে অপারগ হতে পারেন। বিকল্প হিসেবে তিনি তাঁর প্রতিনিধি পাঠাতে পারেন অথবা কমপক্ষে ফোন বা ইমেইল করে অপারগতা প্রদর্শন করতে পারেন। কিন্তু আমাদের মাননীয় হাই কমিশনার মহোদয় এর কোনটাই করেননি। বিলাতে বাঙালি কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বই মেলার প্রতি বাংলাদেশ হাই কমিশনের এ অবজ্ঞা কমিউনিটির মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন ওঠেছে, লণ্ডন হাইকমিশন কি বিলাতে বাংলাদেশী মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত, না কি তারা বিশেষ কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি?

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
YouTube
YouTube
error: Content is protected !!