নরসিংদীতে স্থানীয় আ. লীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩ জন নিহত।

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জের ধরে পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নরসিংদীর রায়পুরায় তিনজন নিহত ও প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) সকালে উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল বাঁশগাড়ী গ্রামে এবং দুপুরে নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামে পৃথক এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন– বাঁশগাড়ী বালুয়াকান্দি এলাকার মোহাম্মদ আবদুল্লাহর ছেলে তোফায়েল হোসেন (১৮),নিলক্ষার বীরগাঁও এলাকার উসমান মিয়ার ছেলে সোহরাব হোসেন (৩০) ও নিলক্ষার গোপিনাথপুর এলাকার সোবহানের ছেলে স্বপন মিয়া (২৫)।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল হক ও সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শাহেদ সরকারের সমর্থকদের বিরোধ চলছিল। গত মার্চে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান শাহেদ সরকার। এর ৪০ দিন পর গত ৩ মে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হক। সিরাজুল হক নিহতের পর থেকে প্রতিপক্ষের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় শাহেদ সরকারের সমর্থকরা। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর শুক্রবার সকালে শাহেদ সমর্থকরা এলাকায় ফিরলে সিরাজুল হকের সমর্থকরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

এ সময় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। এর মধ্যে ৪ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তোফায়েল হোসেন নামে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। সে বাঁশগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী।এছাড়া গুরুতর আহতাবস্থায় সুমন মিয়া, মামুন মিয়া ও সুমন মিয়া নামের তিনজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে একই উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নেও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তাদের সমর্থকরাও বাঁশগাড়ি এলাকার সংঘর্ষে অংশ নেয়। এর মধ্যে নিলক্ষা এলাকার তাজুল ইসলামের সমর্থকরা বাঁশগাড়ী এলাকার সিরাজুল হককে এবং আবদুল হকের লোকজন শাহেদ সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে আবদুল হকের সমর্থকরা বাঁশগাড়ীর সংঘর্ষে অংশ নেওয়ার পর নিজ এলাকায় ফিরে তাজুল ইসলামের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এতে সোহরাব হোসেন নামে তাজুল ইসলামের এক সমর্থক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। আহত হয় কমপক্ষে ৪০ জন। এর মধ্যে ১০-১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষে সর্বশেষ শুক্রবার বিকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান শাহেদ সরকারের সমর্থক স্বপন মিয়া।

রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাফফর হোসেন মিডিয়াকে বলেন, ‘সকালে বাঁশগাড়ীর ঘটনার খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এরই মধ্যে নিলক্ষা ইউনিয়নের প্রথমে বীরগাঁও ও পরে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ শুরু হয়। পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
YouTube
error: Content is protected !!