জল অপচয় রুখতে তমালের ‘এক বিন্দু প্রাণ’

স্বপ্নীল মজুমদার, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিমবঙ্গ (ভারত)

ভারত, বাংলাদেশ তথা বিশ্বের জল সঙ্কটের সমস্যা নিয়ে তৈরি হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্যের বাংলা কাহিনীচিত্র ‘এক বিন্দু প্রাণ’। গত ৫ জানুয়ারি ইউটিউব-এ মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। স্বল্পদৈর্ঘ্যের এই ছবিটি তৈরি করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ঝাড়গ্রাম জেলার বাসিন্দা পেশায় গৃহশিক্ষক তমাল চক্রবর্তী। ইতিমধ্যেই ছবিটি সাড়া ফেলেছে। কারণ, এক স্কুলপড়ুয়ার চোখ দিয়ে বিশ্বের জ্বলন্ত সমস্যাকে দেখিছেন তমাল।

তমালের কথায়, এটি ‘ডকু-ড্রামা’। ছবিতে এক স্কুলপড়ুয়া বাস্তব জীবনে প্রতিনিয়ত জল অপচয় হতে দেখে। অথচ সেটা তার মনে কোনও রেখাপাত করে না। একদিন স্কুলের শিক্ষামূলক ভ্রমণে একটি গ্রামে গিয়ে জলসঙ্কটের বাস্তব সমস্যা দেখতে পায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রটি। এরপরে গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ার সময়ে ওই পড়ুয়া জানতে পারে, কীভাবে মাটির তলায় সঞ্চিত ভৌম জলের ভাঁড়ার শেষ হয়ে যাচ্ছে। ছবিতে দেখানো হয়েছে, মুম্বইয়ের ৮৪ বছরের আবিদ সুরতি নামে এক বৃদ্ধকে যিনি এক ফোঁটা জল বাঁচানোর জন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে যে সব কলে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ে সেগুলি সারিয়ে দেন বিনা খরচে।

Like and follow us on Facebook for all future news.

এক বিন্দু জল বাঁচানোর জন্য প্রতিটা দিন লড়ছেন ওই বৃদ্ধ। আবার তমাল তাঁর ছবিতে দেখিয়েছেন, বৃষ্টির জলকে ‘চোকা পদ্ধতি’তে সংরক্ষণ করে রাজস্থানের রুক্ষ্ম এলাকার লাপোড়িয়া গ্রামকে সুজলা-সুফলা করে তুলেছেন ওই গ্রামের লক্ষ্মণ সিং। ভারতের বেঙ্গালুরু শহরের ভৌম জলের আধার শূন্য হতে চলেছে। তেমনই আফ্রিকার কেপটাউন শহর ভৌম জল শূন্য হতে বসেছিল। মাটির তলার সঞ্চিত জলে টান পড়ার বিষয়টি আগাম বুঝতে পেরে সচেতন হয়েছেন কেপটাউনবাসী। কেপটাউনের প্রতিটি নাগরিক সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জল অপচয় বন্ধ করেছেন। ছবিতে জল অপচয়ের বিষয়গুলি দেখানোর পাশাপাশি, কীভাবে জল সংরক্ষণ করা যাবে সেটাও দেখিয়েছেন তমাল। সিনেমার তৈরির কোনও প্রথাগত শিক্ষা নেই তমালের।

২০১৮ সালে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে তমালের তৈরি ছবি ‘নিশব্দ ঘাতক’ ভারতের ‘চিত্রভারতী চলচ্চিত্র উৎসবে’ সেরা নবীন কথাচিত্রের পুরস্কার পেয়েছিল। ২০১৯ সালের শেষের দিকে তমাল তৈরি করেন তাঁর দ্বিতীয় ছবি ‘এক বিন্দু প্রাণ’। ‘এক বিন্দু প্রাণ’ কাহিনীচিত্র তৈরিতে বিশেষ ভাবে সাহায্য করেছেন ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কোয়েমবত্তূর শহরের অমৃতা বিশ্বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ডক্টর শান্তনু ভৌমিক।

Subscribe our YouTube channel for all our future videos.

ডিএসএলআর ক্যামেরায় ছবিটির দৃশ্যগ্রহণ করেছেন সাংবাদিক স্বপ্নীল মজুমদার। স্কুলপড়ুয়ার মুখ্যচরিত্রে অভিনয় করেছে ১৩ বছরের রিদয় গুপ্ত। অন্যান্য ভূমিকায় রূপদান করেছেন সায়ক মজুমদার, সৌম্যকান্তি সাহু, হরিপদ বাগাল, সুস্মিতা পালিত ও চন্দ্রিমা গুপ্ত। ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন সুন্দরদেব চক্রবর্তী ও সৌম্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ছবিটি সম্পাদনা করেছেন অভিজিৎঅশোক পাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

কোয়ালিটি নিউজ ও ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।

http://www.britishbanglanews.com/150k
https://www.facebook.com/Britishbanglanews/121k
https://www.facebook.com/Britishbanglanews/
youtube.com/c/BritishBanglaNews18k
youtube.com/c/BritishBanglaNews
error: Content is protected !!