জামায়াত বিএনপির ছাড়াছাড়ি কতটা ঘটবে?

সম্প্রতি দুটি জাতীয় পত্রিকা জামায়াত বিএনপিকে ছাড়ছে, বিএনপি জামায়াতকে ছাড়ছে না এমন দুটো শিরোনামে শীর্ষ সংবাদ প্রকাশ করেছে। আবার এরই মধ্যে জামায়াতের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের পদত্যাগ এবং লিখিত বক্তব্য পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়া নিয়ে এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জামায়াত ভাঙা, বিএনপি কি করবে ইত্যাদি আলোচনায় রয়েছে। জামায়াত এবং বিএনপির রাজনৈতিক মৈত্রী নিয়ে দেশে রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন থেকেই আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপিকে একটি বিরোধীদলীয় মর্যাদা প্রদান করে একটি পক্ষ জামায়াতকে ছাড়ার পরামর্শ বিএনপিকে সবসময় দিয়ে আসছিল।

তাদের ধারণা এতে গণতন্ত্রের ভারসাম্য শক্তি হিসেবে বিএনপি আবির্ভূত হলে বাংলাদেশ লাভবান হবে। কিন্তু তারা যে বিষয়টি রাজনৈতিক প্রজ্ঞানতা দিয়ে দেখেন না তা হচ্ছে বিএনপি রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে আদৌ উদারবাদী বা আধুনিক যুগের অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থার রক্ষণশীল আদর্শে বিশ্বাস করে কিনা? একইভাবে বিএনপি এবং জামায়াতের নৈকট্য শুধুই কি আওয়ামী বিরোধী শক্তির জোট, নাকি আদর্শগতভাবে নৈকট্য শক্তির জোট- এই বিশ্লেষণটি খুব একটা দেখা যায় না।

আমরা খুশি হতাম যদি বিএনপি সত্যি সত্যি একটি মধ্যপন্থা কিংবা আধুনিক রক্ষণশীল গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক দল হিসেবে রাষ্ট্র, রাজনীতিতে নিজের ভূমিকা রাখার রাজনীতি করত। কিন্তু বিএনপির উদ্ভব, বিকাশ এবং রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট তা হচ্ছে বিএনপি নিজেই স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে ১৯৭১-পূর্ববর্তী আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসকে ধারণ করে গ্রহণ করছে না। কিংবা মহান মুক্তিযুদ্ধে জনগণের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক দল ও শক্তির ভূমিকাকে নিঃসংকোচে স্বীকার করা এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ, বহন এবং বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে না।

যদি রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে তার যথাযথ প্রমাণ রাখত তাহলে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ করে এমন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা দুটো তথা একদিকে আওয়ামী লীগ এবং এর নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন দলের জোট, অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন দলের আরেকটি জোট হতে পারত। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার ইতিহাসটি এতটাই বেদনাদায়ক এবং পরিহাসের যে আওয়ামী লীগের বিপরীতে বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোট বা অন্য যে কোনো জোট বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে মোটেও ইতিহাস সম্মতভাবে গ্রহণ করছে না।

বঙ্গবন্ধুকে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক হিসেবে স্বীকার করছে না। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ হিসেবে চার জাতীয় নীতি ও রাষ্ট্র রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করার বিপরীতে অবস্থান নিয়ে রেখেছে। এখানেই বাংলাদেশের রাজনীতির ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মস্তবড় দৈন্যদশা, সংকট ও বিপর্যয়ের সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে।

আমরা অনেক রাজনীতির বিশ্লেষকের লেখালেখি ও আলোচনায় এই ভয়ানক রকম সংকটটি দ্বিধাহীন চিত্তে এড়িয়ে যেতে দেখে, কিংবা বুঝতে না পারার অবস্থা দেখে যারপরনাই ব্যতীত হচ্ছি। এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে অনেকেই রাজনীতি করেন কিন্তু রাজনীতির মতাদর্শের চুলচেরা বিশ্লেষণ খুব একটা জানেন বলে মনে হয় না, সেভাবে দেশের রাজনীতিকে উপস্থাপনও করতে পারেন না। তাদেরই দুর্বলতা অন্য পাঠক কিংবা শ্রোতাদের ওপর ব্যাপকভাবে পড়ে। অনেকেই রাজনীতিকে এসব আলাপ-আলোচনা, লেখালেখি পড়ে বুঝতে বা শিখতে চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো মৌলিক বইপুস্তক হয়তো সেভাবে পড়েন না। কিংবা কেউ পড়লেও ব্যক্তিগত বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতিকে নির্মহভাবে বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে পারদর্শিতা খুব একটা রাখেন না বা দেখান না। এখানে নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্রের স্বপ্ন ও বাস্তবতা খুবই জটিল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফিরে আসা যাক মূল প্রসঙ্গে। বলা হয়েছে জামায়াত গত নির্বাচনের কারণে বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে যথাযথ আচরণ করেনি। তাই জামায়াত নাখোশ হয়ে বিএনপির ওপর আস্থা হারিয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির সঙ্গে জামায়াত থাকলে সরকার জামায়াতকে আরো বেশি দমন-নিপীড়নের মাধ্যমে কোণঠাসা করে ফেলবে। তাই জামায়াত এখন কৌশলগতভাবে আলাদা অবস্থান নিবে।

তবে জামায়াত নানা ধরনের সামাজিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংগঠনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভিন্ন কৌশলে কাজ করতে চায় এবং একটি পর্যায়ে এসে জামায়াত তার করণীয় নির্ধারণ করবে। আবার অন্য একটি পত্রিকা জামায়াত এবং বিএনপির ছাড়াছাড়ি নিয়ে ভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বিএনপি নেতাদের যে ধরনের মন্তব্য পাওয়া গেছে তাতে বিএনপিতে জামায়াত ছাড়া এবং না ছাড়া নিয়ে দুই ধরনের শক্তি রয়েছে যা বিএনপির নীতিনির্ধারকরা অবহিত। তবে বিএনপি জামায়াতকে ছেড়ে দেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি- এটি তারা পরিষ্কার করেছেন।

অবশ্য ড. এমাজউদ্দীন আহম্মেদ বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার পরামর্শ অনেক আগে থেকে দিয়ে আসছেন বলে দাবি করেছেন। তিনি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের একজন আদর্শের ধারক বলে দাবি করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপির জন্মের পর থেকে এ পর্যন্ত জামায়াত তো বিএনপির সঙ্গেই ছিল। মাঝে মধ্যে জামায়াত ভিন্ন কৌশলে আওয়ামী লীগের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেছে মাত্র। কিন্তু আওয়ামী লীগ কখনো জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করতে বা সমালোচনা করতে কার্পণ্য করেনি। অথচ বিএনপি জামায়াতের স্বাধীনতা বিরোধী অবস্থান এবং একটি সাম্প্রদায়িক পাকিস্তানি ভাবাদর্শের রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অন্যতম ধারক শক্তি হিসেবে জানার পরও জামায়াতের সঙ্গে আদর্শিক জোট গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা, নির্বাচনে অংশ নেয়া, নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেয়া ইত্যাদিতে জড়িয়ে আছে। এ কথা ড. এমাজউদ্দীন আহম্মেদ দেখেননি বা বুঝেননি তা ভাবার কোনো কারণ নেই।

আসলে আমাদের সমাজে বুদ্ধিবৃত্তিতে অনেকেই এমন দেউলিয়া এবং দোদুল্যমানতার পরিচয় দিয়ে থাকেন। এর প্রভাব নিচের তরুণদের মধ্যে কত ব্যাপকভাবে পড়ে তা সহজেই অনুমেয়। বাংলাদেশে বিএনপির একনিষ্ঠ সমর্থক অনেক নেতাকর্মী রয়েছেন। বিএনপিকে তারা নীতিজ্ঞানে ভালোবাসেন। কিন্তু বিএনপি মতাদর্শগতভাবে একটি সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভুল ও বিকৃত ব্যাখ্যা স্বয়ং জিয়াউর রহমানই উপস্থাপন করেছেন।

জিয়া পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে আওয়ামী লীগকে বঞ্চিত করা, বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাকে ধীরে ধীরে উচ্ছেদ করা এবং জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও মুক্তিযুদ্ধের মূল নেতৃত্বের কাল্পনিক আসনে দাঁড় করিয়ে যে বিকৃত ইতিহাস দলীয় রাজনীতিতে সংযোজন করা হয়েছে সেটি বাংলাদেশে একমাত্র জামায়াত ইসলামের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মতাদর্শের খুব কাছাকাছি অবস্থান করে।

এ ছাড়া ১৯৭৫-এর রাজনৈতিক হত্যাকা-কে বিএনপি দেশ ও জাতির জন্য কলঙ্কজনক, বিয়োগাত্মক এবং গণতন্ত্রবিরোধী বলে গ্রহণ না করে বরং ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্টকে খালেদা জিয়ার একটি নকল জন্মদিনের কেক কাটার উৎসবে পরিণত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে বিএনপি যেসব বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে, কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছে সেটি কোনো অবস্থাতেই মানবিক তো নয়ই গণতন্ত্রেরও ধারেকাছে যাওয়ার মতো নয়। এই ধারণাগুলো ও বিশ্বাসগুলো শুধু আওয়ামী লীগের বিরোধিতার মধ্যেই দেখলে বা সীমাবদ্ধ রাখলে নিজেদের দেখার দৈন্যদশায় পড়তে হবে।

কেননা এই বিরোধিতার ভেতরে যেটি গভীরভাবে লুকিয়ে থাকে তা হলো ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপরের ইতিহাসও। একটি রাজনৈতিক দল অন্য রাজনৈতিক দলের সমালোচক হওয়াটি মোটেও অগ্রহণযোগ্য নয়। বরং গণতন্ত্রে সেই আলোচনা-সমালোচনার প্রতিযোগিতা দিয়েই একদল অন্যদল থেকে যোগ্য উদারবাদী, ন্যায়নিষ্ঠ এমনকি মেধাবীও বলে উপস্থাপন করতে পারে। গণতন্ত্রে এটিই প্রত্যাশিত।

কিন্তু আমাদের দেশে সেটি আমরা প্রত্যাশা করলেও তা একেবারেই দুরাশার বিষয় হিসেবে অবস্থান করছে- এ কারণে যে জামায়াত এবং বিএনপি আওয়ামী লীগের বিরোধী শক্তি গণতন্ত্রের মাঠে থেকে নয় বরং বিপরীতে অবস্থানের মাধ্যমে। এটিই ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে ক্ষমতাসীন চার দলীয় জোট সরকারের আওয়ামী নিধন সুপ্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্পষ্ট দেখা গেছে।

এখনো জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে দেশ থেকে আওয়ামী লীগ শুধু নয় অসাম্প্রদায়িক শক্তিকেও দেখে নেয়ার হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। এর মানে হচ্ছে তারা একটি চরম নৈরাজ্যকর বিরোধী মানসিকতায় রাজনীতিকে আত্মস্থ করেছে- যেটি রাজনীতির জন্য ভয়ঙ্কর বার্তা বহন করে।

আমরা জানি না বিএনপিতে যেসব অপেক্ষাকৃত উদারবাদী নেতা রয়েছেন তারা দলটির রাজনীতিকে সত্যিকার অর্থেই একটি উদারবাদী গণতান্ত্রিক, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ত ধারার রাজনীতিতে আদৌ ফিরিয়ে আনতে পারবেন কিনা? সেটি না করা গেলে বিএনপি জামায়াতের প্রান্তিক মৌলবাদী না হলেও এর কাছাকাছি প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক বলয়ের বাইরে বের হয়ে আসার কোনো চর্চাই করতে পারবে না। সেটি না করা গেলে বিএনপি এবং জামায়াতের আদর্শিক ঐক্য কখনই আলাদা হওয়ার কোনো বাস্তব সঙ্গত কারণ থাকবে না।

বিএনপি মতাদর্শগতভাবে রক্ষণশীলতাকে ধারণ অব্যাহত রাখলে জামায়াত তা নির্ভরযোগ্য মিত্রশক্তি হিসেবে বিবেচিত হবেই। এবং এ ধরনের বিবেচনা রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপিকে যেই তিমির সেই তিমিরেই রেখে দিবে। বিএনপি কখনো তার রাজনৈতিক মতাদর্শিক সংকীর্ণতা, গণ্ডিবদ্ধতা এবং প্রতিক্রিয়াশীলতা অতিক্রম করতে পারবে না। সেটি না করতে পারলে বিএনপি জামায়াতের ওপর নির্ভরশীল থাকবে ভোটের হিসাব-নিকাশের পরিসংখ্যানের ওপর। কিন্তু তাতে জয়ী হয়ে ক্ষমতাসীন হলে দেশ মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, গণতন্ত্রের সংকট ইত্যাদি থেকে মোটেও বের হয়ে আসতে পারবে না।

বরং এই শক্তি বিশ্ববাস্তবতায় সমালোচিত এবং সন্দেহমূলক অবস্থানে যেতে বাধ্য হবে। বিএনপির ভাবা উচিত যে সত্তর থেকে একুশ শতকের প্রথম দশকটি পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক নৈকট্য, সখ্য, জোটবদ্ধতা ইত্যাদিকে পশ্চিমা বিশ্বগুলো যতটা ছাড় দিয়েছে এখন তা দিচ্ছে না। কারণ সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর উত্থান পশ্চিমা বিশ্বের জন্যই শুধু নয় বরং বর্তমান বিশ্বের সব জাতি ও রাষ্ট্রের অগ্রগতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুতরাং জামায়াত বিএনপির সখ্য ঐক্য ও নৈকট্য পশ্চিমা বিশ্ব এখন মোটেও খুব ভালোভাবে নিচ্ছে না। দেশেও যারা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি চাচ্ছে তারাও এর বিপদ সম্পর্কে শঙ্কিত। সুতরাং সময়টা জামায়াত বিএনপির মতো রাজনৈতিক শক্তির অনুকূলে নয়, বরং প্রতিকূলে। রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হলে ইতিহাসের গতিময়তার সঙ্গে একাত্ম হতে হয়। একে এগিয়ে নিতে হয়। কিন্তু জামায়াত-বিএনপির ঐক্য সেই ধারণাই পোষণ করে না।

এখানেই এই রাজনীতির গুরুতর সীমাবদ্ধতা, সংকট ঘুরপাক খাচ্ছে। মানুষ ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধিতে এসব রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা ধরতে পারছে, বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে জামায়াত বিএনপি এখন যে রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে বলে আমরা দেখছি সেটি দেখতে হবে এর মৌল আদর্শগত কাঠামো ও চরিত্রের মধ্যে। পরিবর্তন ও ভাঙন যা কিছু ঘটবে তা রাজনীতিতে বিপরীত স্রোতে চলার সংখ্যা যখন তীব্রতর হবে তখন এমন রক্ষণশীল মতাদর্শও একসময় দুর্বল কিংবা ভাঙাভাঙিতে পড়তে পারে।

তবে সেটি নির্ভর করবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রগতিশীল, উদারবাদী রাজনৈতিক, সামাজিক ও অন্যান্য বুদ্ধিবাদী সংগঠন ও গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার ওপর। দুঃখজনক হলেও সেই চর্চাটি আমাদের এখনো বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা দ্বারা খুব একটা পরিচালিত হচ্ছে না। দরকার সেই পদ্ধতিগত শিক্ষায় রাজনৈতিক মতাদর্শের চর্চাকে বৃহত্তর সমাজের তরুণ প্রজন্মের সম্মুখে তুলে ধরা। তারাই তখন নির্ণয় করতে পারবে দেশ ও বিশ্ব বাস্তবতার গতি কোনদিকে, আমাদের দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ও অন্যান্য শক্তির সীমাবদ্ধতা কোথায়, কোনটির ওপর নির্ভর করে কতটা অগ্রসর হওয়া যাবে। তারা তখন সেভাবেই রাজনৈতিক দল ও শক্তিকে দেশ ও রাষ্ট্রের জন্য বিবেচনা করবে।

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী: অধ্যাপক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
YouTube
error: Content is protected !!