চুপসে গেছেন সেই সম্রাটের সম্রাট – ওমর ফারুক চৌধুরী

ব্রিটিশ বাংলা নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় যুবলীগের নেতারা ৬০টি ক্যাসিনো চালান, এমন তথ্য জানিয়ে প্রশ্ন করা হলে যুবলীগ চেয়াম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছিলেন, “ওই ৬০ যায়গার পুলিশ ও র‌্যাব কি আঙুল চুষছিলো এতদিন? আপনারা এত দিন কী করেছেন?” ক্যাসিনোকাণ্ডে যুবলীগ নেতাদের গ্রেফতারের আগে সংশ্লিষ্ট ৬০ থানার ওসিকে গ্রেফতার করতে হবে বলেও হুঙ্কার দেন যুবলীগ চেয়ারম্যান।

এর পর থেকেই আলোচনায় তিনি। অবশ্য পরে তিনি নমনীয় হন, কিন্তু বিতর্ক থেমে যায়নি। একে একে যুবলীগ নেতাদের গ্রেফতার ও মামলার পাশাপাশি খোদ ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়। তার বিদেশ যাওয়ায়ও আসে নিষেধাজ্ঞা। এর পর থেকে একেবারেই চুপসে যান তিনি। আউট অব সিন হয়ে যান। বাসা থেকে বের হন না বলে খবর পাওয়া যায়। সচরাচর মিডিয়ার ডাকেও সাড়া দেন না।

গতকাল রোববার (২০ অক্টোবর) বিকাল ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগের শীর্ষনেতাদের বৈঠক হয়। সেখানে যাননি যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। অবশ্য, বিতর্কিত নেতাদের ঢুকতেও দেয়া হয়নি। শেখ মারুফ ও শেখ দীপু ফিরে আসেন।

ওই বৈঠকে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে দায়িত্বে অবহেলা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অব্যাহতি দেয়া হয়।

তবে গণভবনে যখন বৈঠক চলছিল তখন গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী তার গণভবনে না যাওয়ার কারণ, আজকের এই পরিস্থিতি ও সামনে কী করবেন, এগুলো নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, “১০ বছর আমার চেহারা ভালো ছিল, কিন্তু এখন খারাপ হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, আর সংবাদ মাধ্যমে আমার বিচার চলছে। স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমে যা ছাপা হচ্ছে, মানুষ এখন সেটাই বিশ্বাস করবে। আমি যাই বলি না কেন, তা মিথ্যা হিসেবে বিবেচিত হবে।”

গণভবনের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাকে কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বৈঠক থেকে ফোন করেছিলেন। তারা বলেছেন, আমার বিষয়টি নিয়ে নাকি আলোচনাই হয়নি। তাছাড়া আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে যা বলা হচ্ছে তা সঠিক নয়।”

“আমি জেনেছি, বৈঠকে কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলামকে আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এখানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বা অন্য কিছু নেই”- যোগ করে তিনি।

যে কারণে বৈঠকে আসেননি

আপনার অনুপস্থিতিতে যুবলীগের বৈঠক চলছে বিষয়টি কীভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “এর আগে আমি প্রেসিডিয়াম বৈঠক ডাকার কথা বলেছি। সেটা ডাকা হয়েছে। আমি উপস্থিত ছিলাম না, কারণ আমার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উঠেছে। আমার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। তাই আমি তাদেরকে বলেছি, তোমরা বৈঠক করো। আমি থাকলে আমার বিষয়টি হয়তো আলোচনা হবে না। তাদেরকে আরও বলেছি, বৈঠকে যে আলোচনা হবে তা রেজ্যুলেশন আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবে। এর পর প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকেও আমি নাই একই কারণে। ”

“আমার বিবেক এখন দংশিত হচ্ছে”

ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “আমার বিষয়টি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ায় গেছে। আমার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। এর পর হয়তো এনবিআর বিষয়টি দেখবে। যদিও দুদকের ৫০ জনের তালিকায় আমি ছিলাম না। তার মানে কি আমার বিষয়টি দুদকের সঙ্গে ছিল না, এখন হয়েছে। তাই বলছি, ১০ বছর আমার চেহারা ভালো ছিল, এখন খারাপ হয়েছে। আমার বিবেক এখন দংশিত হচ্ছে। দুদক বা এনবিআর যদি আমাকে ডাকে তাহলে আমি সেসব ফেস করার জন্য প্রস্তুত আছি।”

“যেকোনো সময় গ্রেফতার করা হতে পারে” এমন গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার বিষয়টি তো বিচার প্রক্রিয়ায় গেছে। এখানে গ্রেফতারের বিষয়টি আসছে কেন? অবশ্য গ্রেফতার করতে চাইলে করতেও পারে।

প্রসঙ্গত, গত ৯ অক্টোবর যুবলীগসহ চার সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর মধ্যে ২৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

সম্মেলন সফল করতে ইতিমধ্যে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সভা হয়েছে। সেখানে সংগঠনের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন উপস্থিত ছিলেন না। সর্বশেষ রোববার গণভবনের সভায়ও তারা যাননি।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
YouTube
YouTube
error: Content is protected !!