করা এই “জইশ-ই-মুহাম্মদ” বা মুহাম্মাদের সৈন্য ?

নিউজ ডেস্ক ,লন্ডন : ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তির পর থেকেই এখনো চিরশত্রুর তকমা লেগে আছে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কে। এক কথায় একে অপরের চির শত্রু ! সর্বদা লেগে থাকে একে অপরের বিরুদ্ধে।

বর্তমানে সংবাদের শিরোনাম কেবল ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনাকে নিয়ে । সীমান্তে গোলাগুলি, যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের খবর, একের পর এক হুমকিতে উত্তেজনার পারদ উঠছে দেশ দুটি কে ঘিরে । কিন্তু ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বর্তমানের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য যে নামটি বার বার উচ্চারিত হচ্ছে তা হলো জিহাদি সংগঠন “জইশ-ই-মুহাম্মদ ” এর নাম।

তাহলে করা এই মুহাম্মাদের সৈন্য বা জইশ-ই-মুহাম্মদ ?

জইশ-ই-মুহাম্মদ: (উর্দুতে : جيش محمد‎‎, যার অর্থ হলো ” জইশ-ই-মুহাম্মদ ” বা “মুহাম্মাদের সৈন্য”, । এ টি কাশ্মীর ভিত্তিক একটি জিহাদি সংগঠন। সংগঠনটির প্রাথমিক লক্ষ্য হলো কাশ্মীরকে ভারত থেকে পৃথক করা এবং সে জন্য ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে প্রায়ই হামলা চালিয়েছে সংগঠনটি।যদিও ২০০২ সালে জইশ-ই-মুহাম্মদ নামের সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান এবং একে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকা ভুক্ত করেন দেশটি।

যেভাবে এর জন্ম :
১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর কাঠমান্ডুতে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা ১৮০ জন যাত্রীসহ আইসি ৮১৪ ফ্লাইটটিকে অমৃতসর,লাহোর ও দুবাই হয়ে আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিয়ে যায়। ওই ধারণায় যুক্ত থাকার অভিযোগে জেলে যান মওলানা মাসউদ আজহার নামের এক জিহাদি নেতা।

এই ঘটনার কারামুক্তির অল্পদিন পরে মওলানা মাসউদ আজহার ২০১০ সালের মার্চ মাসে জইশ-ই-মুহাম্মদ গড়ে তোলেন। সন্ত্রাসী সংগঠন হরকাতুল মুজাহিদীনের অধিকাংশ সদস্যই তখন মওলানা আজহারকে অনুসরণ করে নতুন দল জইশ-ই-মুহাম্মদে যোগ দেয়।

২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফ সরকার জইশ-ই-মুহাম্মদকে নিষিদ্ধ করলে দলটি তাদের নাম বদলে খাদ্দাম- উল- ইসলাম বা “ইসলামের চাকর” নামে আত্মপ্রকাশ করে এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

সর্ব শেষ ,এ মাসের ১৪ তারিখ সিআরপিএফের চল্লিশ জনেরও বেশি ভারতীয় জওয়ানের প্রাণ যায় এই জঙ্গিদের হামলায়। যার দায়ও স্বীকার করে জইশ-ই-মুহাম্মদ। আদিল মোহাম্মদ নামের একজনকে হামলাকারী হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ২০১৮ সালে তিনি জইশ-ই-মুহাম্মদে যোগ দেন।

এর আগে , ২০১৬ সেপ্টেম্বরে উরি হামলা হয় । তখন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছিল এই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। তখনও নিহত হয়েছিল ১৭ জন ভারতীয় সৈন্য ।

সূত্র : বি বি সি , ইন্টারনেট।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
YouTube
error: Content is protected !!